ইরানের কমিউনিস্ট আন্দোলন ও আমাদের শিক্ষা

[লেখাটি প্রকাশিতব্য সংকলন গ্রন্থ “ইরানের কমিউনিস্ট আন্দোলন ও তুদেহ পার্টি”-এর জন্য লিখিত ভূমিকা]

১৯১৭ সালে সোভিয়েত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের ঢেউ দেশে দেশে আছড়ে পড়তে থাকে। সে জোয়ার থেকে বাদ যায়নি ইরানও। ইরানের বন্দর-ই আনজালিতে সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় ১৯২০ সালের ২২ জুন—সে হিসেবে শতবর্ষী। এমনকি ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট আন্দোলনের চেয়েও পুরনো। কিন্তু ইরানে শ্রমিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনা উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে। সেই সময় ও বিংশ শতাব্দীর গোড়াতেই পুঁজিবাদী উৎপাদন ও শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মার্কসবাদী ভাবাদর্শও ইরানে পথ খুঁজে নেয়। প্রথম মহাযুদ্ধ পর্যন্ত ইরানে দুটি সাম্রাজ্য রাজ করত—উত্তর ইরানে জার শাসিত রাশিয়া আর আফগান সীমান্তের দক্ষিণ অংশে ব্রিটেন। বিপ্লবপূর্ব সময়ে রাশিয়ায় সেনাবাহিনীতে বলশেভিকদের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে ইরানেও। কারণ, সে সময় রুশ সেনাবাহিনীর একটি অংশ স্থায়ীভাবে মোতায়েন ছিল উত্তর ইরানে। একই সঙ্গে ইরানের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করত জার শাসিত রুশ সাম্রাজ্যের অধীন বিভিন্ন তেলখনিতে। এসব খনিতেও প্রভাব ছিল বলশেভিকদের। ফলে তাদের দ্বারা পরিযায়ী ইরানি শ্রমিকরাও মার্কসবাদে দীক্ষিত হয়। বাকুতে থাকা ইরানি শ্রমিকরা প্রথম সংগঠিত হয়ে ১৯০৪ সালে একটি বিপ্লবীধারার দল গঠন করে। দলটির নাম ‘হেম্মাৎ’ (Aspiration)।

‘ইসক্রা’ প্রকাশের কয়েক বছরের মধ্যেই লেনিনের আগ্রহে বার্লিন থেকে তাবরিজ হয়ে বাকুতে যেত মুখপত্রটি। বাকুতে তখন ইরানি বিপ্লবীরা সংগঠিত হচ্ছিল। সে সময় রুশ সাম্রাজ্য থেকে বলশেভিক নেতারা এবং ইরান থেকে ইরানি বিপ্লবীরা নির্বাসিত। তাঁদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। অক্টোবর বিপ্লবে ইরানের বিপ্লবীদের একাংশ সরাসরি অংশ নেয়। বিপ্লব সফল হওয়ার পর ইরানি বিপ্লবীদের নিয়ে রাশিয়াতেই স্যোসাল-ডেমোক্র্যাট ধরনের দল ‘আদালত’ (Justice) পার্টি গঠিত হয়। রুশ বিপ্লবের পর প্রবাসী ও নির্বাসিত ইরানি বিপ্লবীদের দেশে ফিরে রাজনীতি করা কিছুটা সহজ হয়। ফলে ইরানের বিপ্লবী ‘হেম্মাৎ’, ‘আদালত’ ও অন্যান্য বিপ্লবীদের নিয়ে উত্তর ইরানের বন্দর-ই আনজালিতে মিলিত হয়ে ‘ইরানের কমিউনিস্ট পার্টি’ গঠন করে। নেতা নির্বাচিত হন হায়দার আমাউ ওগলি।

কিন্তু বিধি বাম! পার্টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইরানের একাংশে থাকা ব্রিটিশ শাসক ও ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের পৃথক পৃথক ষড়যন্ত্রে ওগলি-সহ পার্টির বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতৃত্ব হত্যার শিকার হন। ফলশ্রুতিতে পার্টি অস্তিত্ব রক্ষায় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় ইরানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। শাসকের পালাবদল ঘটলেও কমিউনিস্টদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের ব্যবস্থার বদল ঘটেনি। রেজা শাহ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কমিউনিস্টদের ওপর অত্যাচার অব্যহত রাখেন। এর মধ্যেও পার্টির অধীনে তেল-শ্রমিক, নারী ও যুব সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯২৯ সালে ‘মজলিশ’ (সংসদ)-এ আইন করে কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়। এ সময় গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসেন ড. তাঘি আরানি (Dr. Taghi Arani)। তিনি ১৯৩২ সালে ‘দোনিয়া’ (World) নামে পার্টির মুখপত্র প্রকাশ করেন।

১৯৩৬ সালে রেজা শাহের পুলিশ ড. আরানি ও তাঁর ৫২ জন সহযোগী নেতৃত্বকে গ্রেফতার করে। এটি ‘৫৩ জনের দল’ (Group of 53) নামে পরিচিত। বিনা বিচারে আটকে রাখার দুই বছর পর জনগণের চাপের মুখে তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে বাধ্য হয়। সরকারের প্রহসনের বিচারে ড. আরানি আত্মপক্ষ সমর্থন করে সমাজতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা বক্তৃতা করে রেজা শাহের মুখোশ উন্মোচন করেন। পরে ১৯৪১ সালে তাঁকে কারাপ্রকোষ্ঠেই হত্যা করা হয়।

নাৎসি জার্মানির সঙ্গে রেজা শাহের গোপন আঁতাত ছিল। ফলে ১৯৪১ সালের আগস্টে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্র বাহিনী সোভিয়েত বাহিনী উত্তর ইরানে ও ব্রিটিশ-আমেরিকান বাহিনী দক্ষিণ ইরানে প্রবেশ করে। রেজা শাহকে নির্বাসনে পাঠিয়ে ব্রিটিশরা তার ছেলে মোহাম্মদ শাহকে ক্ষমতায় আনে। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের চাপে নবগঠিত সরকার সব রাজবন্দীদের

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice